সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর আওতায় নবনিযুক্ত শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পদায়নের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। বারবার সময়সূচি পরিবর্তন ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার অভিযোগে এবার প্রশিক্ষণ বর্জনসহ চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখা-২ থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে পদায়নের নতুন সময়সূচি জানানো হয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা গত ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করেন। ৪ অক্টোবর বিদ্যালয়ভিত্তিক পদায়নের কথা থাকলেও প্রথম দফায় তা পিছিয়ে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। একই দিন থেকে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ। এর মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় পদায়নের তারিখ ১৮ অক্টোবর নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষকদের মধ্যে।
নবনিযুক্ত শিক্ষকদের অভিযোগ, চূড়ান্ত সুপারিশের পর থেকে দীর্ঘ আট মাস ধরে তাঁরা অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে এর আগে তিন দফায় শাহবাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। এরপরও বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষকদের দাবি, পাঁচ দিনের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ছিল। সরকারি বরাদ্দ ও খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জেলায় নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হয়েছে তাঁদের। কোনো কোনো জেলায় প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সনদও বিতরণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষণের মেয়াদ বাড়ানো ও পদায়ন পেছানোর সিদ্ধান্তকে তাঁরা অযৌক্তিক বলে মনে করছেন।
একই ব্যাচের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগও তুলেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষকরা। তাঁদের ভাষ্য, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মাগুরাসহ কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ অন্য জেলাগুলোতে বারবার সময় পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষককে কেন ভোগান্তিতে পড়তে হবে, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
এ পরিস্থিতিতে চার দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষকরা। এর অংশ হিসেবে দেশের ৬১ জেলার সব উপজেলায় চলমান বর্ধিত ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া শনিবার দুপুর ২টায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে একযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
শিক্ষকদের আলটিমেটাম, আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে সব জেলার নবনিযুক্ত শিক্ষকদের চূড়ান্ত পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে পদায়ন আদেশ জারি না হলে ১১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন তাঁরা। পদায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নবনিযুক্ত শিক্ষকরা।