October 24, 2026, 7:25 am

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি, অপেক্ষা বায়েরার ছাড়পত্রের

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এ জন্য বায়েরার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন।

এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফর করেছে রাশিয়ার উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টরের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ বিভিন্ন কারিগরি অগ্রগতি তুলে ধরেন। শুক্রবার ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে। মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব জটিল পরীক্ষা ও ফিজিক্স টেস্ট শতভাগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বায়েরার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলেই ইউনিটটি পাওয়ার স্টার্টআপের প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে।

তিনি বলেন, পাওয়ার স্টার্টআপের শুরুতে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। প্রতিটি ধাপের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধীরে ধীরে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করা গেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। সে লক্ষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সময়সীমা নির্ভর করছে প্রতিটি ধাপের সফলতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা