October 22, 2026, 2:19 am

ভুক্তভোগীর স্বজনের সাক্ষ্য শুধু আত্মীয়তার কারণে অবিশ্বাসযোগ্য নয়: আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভুক্তভোগীর নিকটাত্মীয়ের সাক্ষ্য কেবল আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে অবিশ্বাস করা যাবে না। সাক্ষ্য সরাসরি ও বিশ্বাসযোগ্য হলে তা গ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য থাকলে অপরাধের মোটিভ বা উদ্দেশ্য প্রমাণ করা আবশ্যক নয় বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

‘মো. হুমায়ুন কবির বনাম রাষ্ট্র’ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ এসব পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত বলেন, বিচারকের দায়িত্ব শুধু নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি থেকে রক্ষা করা নয়, অপরাধী যাতে শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও। নির্দোষকে রক্ষা করা এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা বিচারকের সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিচারকার্যে পক্ষপাত বা অনুকম্পার সুযোগ নেই, আইনের কাছে সত্যই প্রধান বিবেচ্য।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ৬ মার্চ রাত ১১টার দিকে রাজধানীর কাউলা সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন আসাদুজ্জামান সঞ্জু। এ সময় হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তাঁর তর্ক হয়। একপর্যায়ে হুমায়ুন তাঁকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। গুরুতর আহত সঞ্জুকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি তাঁর বাবা ও সহকর্মীদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দেন এবং হামলাকারী হিসেবে হুমায়ুনের নাম উল্লেখ করেন। পরদিন ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোহাম্মদ আলী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

২০১০ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ হুমায়ুন কবিরকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদন না দিয়ে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন আসামি।

আপিল শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, মামলায় কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী হাজির করা হয়নি। সাক্ষীরা সবাই নিহতের নিকটাত্মীয় বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এ ছাড়া শোনা সাক্ষীর নির্ভরযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই না করেই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ঘটনার পরপরই নিহত সঞ্জু আসামির নাম প্রকাশ করেছিলেন। সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণে উল্লেখযোগ্য কোনো অসংগতি নেই।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আপিল বিভাগ রায়ে বলেন, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রসিকিউশনের। শুধু সন্দেহ বা আংশিক প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

আদালত আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি ঘটনার পরপরই তাঁর বাবা ও সহকর্মীদের কাছে আসামির নাম প্রকাশ করেছিলেন। মৃত্যুকালীন জবানবন্দি হিসেবে এই বক্তব্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসামিপক্ষ সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারেনি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা