October 17, 2026, 8:45 pm

সড়কে নজরদারি বাড়ায় মাদক পাচারের নতুন রুট নৌপথ,মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবা, ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে

নৌপথে বাড়ছে মাদক পাচার। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে যাচ্ছে সিমেন্ট ও সার, আর মিয়ানমার থেকে দেশে ঢুকছে ইয়াবার চালান। কক্সবাজার ও টেকনাফের বিভিন্ন নৌপথ দিয়ে আসা এসব মাদক বরিশাল, চাঁদপুর, মোংলা, খুলনা ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। মাঝেমধ্যে কিছু চালান আটক হলেও অধিকাংশই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারাও নৌপথে মাদক পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সড়কপথে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি, চেকপোস্ট ও তল্লাশি জোরদার হওয়ায় মাদক কারবারিরা নৌপথকে পাচারের বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আগে সড়কপথে মাদক পাচারের প্রবণতা বেশি থাকলেও এখন নৌপথে পাচার বাড়ছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানেও নৌপথে মাদক পাচারের তথ্য উঠে এসেছে। মিয়ানমার থেকে কীভাবে মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, কোন কোন পথে তা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা চিহ্নিত করতে কাজ করছে সংস্থাটি। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদকগুলোর মধ্যে ইয়াবা অন্যতম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফসহ বিভিন্ন নৌপথ দিয়ে ট্রলার ও অন্যান্য নৌযানে মাদকের চালান দেশে আনা হচ্ছে। পরে সেগুলো বরিশাল, চাঁদপুর ও মোংলাসহ বিভিন্ন রুটে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পাঁচ লাখ ইয়াবার দুটি চালান এবং তিন লাখ ইয়াবার আরেকটি চালান আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

টেকনাফ থেকে নৌপথে আসা মাদকের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চাঁদপুরের নাম উঠে এসেছে। এলাকাটিতে মাদক পাচারের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ২৫ হাজার ইয়াবাসহ ওই এলাকার কথিত গডফাদার রানা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

মাদক পাচার ও ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। প্রয়োজনের তুলনায় অধিদপ্তরের জনবল ও অবকাঠামো অনেক কম। এগুলো বাড়ানোর প্রস্তাব একাধিকবার দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

নৌপথে মাদক নিয়ন্ত্রণে এসআরবি, কোস্ট গার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী নৌপথে মাদক আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করে দেশব্যাপী অভিযান চালাচ্ছে এসআরবি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা