October 17, 2026, 8:05 pm

সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরামের ১৭তম সম্মেলনের সাইডলাইনে সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী, কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী এবং সৌদি আরবভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাকুয়া পাওয়ারের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রোববার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা, এলএনজি আমদানি, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সৌদি আরবের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং সহযোগিতার একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন ও জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন সৌদি মন্ত্রী।

অন্যদিকে, কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা এবং এলএনজি আমদানি নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা পর্যালোচনা, নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির উৎস ও সরবরাহপথ বহুমুখীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়।

এদিকে, অ্যাকুয়া পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। বৈঠকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা পূরণ, এলএনজি সরবরাহের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা