April 19, 2026, 9:19 am

কালীগঞ্জ সরকারী মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

কালীগঞ্জ সরকারী মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের দুর্নিতীর কারণে বেতন পাচ্ছে না ৯৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ সরকারী মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের অনিয়ম, দূনীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে কলেজের শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ নেওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ এনে কলেজ গভর্নিং কমিটির সদস্যরা তাকে বহিস্কার করেছেন। কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্না রানী সাহা তদন্ত পূর্বক তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূনিতির সত্যতা পান। কলেজের ৯৮ জন শিক্ষক কর্মচারির বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রমানের খামখেয়ালি পনার কারনে। ২০১৬ সালের ২৪ জুন কলেজের গভর্ণিং বডি প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পক্ষান্তরে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান কে চুড়ান্ত বরখাস্ত করে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে পত্র প্রেরন করেন এবং ২০১৬ সালের ২৪ জুন থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করেন আব্দুল মজিদ মন্ডল। দূনীতিবাজ মাহবুবুর রহমান হাইকোটে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান রিট মামলার আদেশ, জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের ৬/৫/২০২১ তারিখের ৪৩৫৯৮(৪) নং স্বারকের পত্র, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ৩১৭/১৯ তারিখের ২২০/১(৯) স্বারকের নির্দেশে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ৭/৮/২০১৯ তারিখের ৩২৩২/৮ স্বারকে অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান ৮/৮/২০১৯ তারিখে সরকারী মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজের সভাপতি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্না রানীর নিকট যোগদান পত্র দাখিল করেন। দাখিলকৃত কাগজ পত্র দেখে সভাপতির সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে সভাপতি তাকে যোগদান না করিয়ে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি প্রেরন করেন। এ ছাড়া সাবেক অধ্যক্ষ মাহবুুর রহমান যোগদানপত্রের সাথে সংযুক্ত হাইকোর্টের রায়ে, কলেজের নামকরন মিল না থাকা, ভুয়া স্বাক্ষর করে কাগজপত্র দাখিল করেন। কাগজপত্র দেখে সভাপতির সন্দেহ হলে তিনি যোগদানপত্র গ্রহন করেননি। সংশোধিত করে যোগদানের জন্য লিখিত আদেশ দেন। সাবেক অধ্যক্ষ হাইকোটে মামলা করার আদেশের রায় তার বিপক্ষে যায়। কিন্তু তিনি কাগজপত্র জাল জালিয়াতি করে, স্বাক্ষর জাল করে যোগদান করতে আসে। অদ্যবধি ২০২১ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সংশোধিত কাগজ পত্র দাখিল করতে ব্যার্থ হওয়ায় তিনি যোগদান করতে আসে নাই। তারই কারনে অত্র কলেজের ৯৮ শিক্ষক কর্মচারি বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে তিনি বিভিন্ন সময়ে কলেজে উৎকোচ গ্রহন করে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া কলেজের আয়ের টাকাও আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ২২ লাখ টাকা। ঝিনাইদহ ৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার ২০১৬ সালের ২০ জুলাই সুপ্রিম কোটে একটি রিট করেন যার নং ১২২৬১/১৯। সেই রিটের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোটে সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান রায়ের বিরুদ্ধে আফিল দায়ের করেন। দায়েরকৃত আফিল অদ্যবধি পর্যন্ত শুনানি হয়নি। সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি যোগদান করেন। যোগদানের এক বছর পর তার বকেয়াসহ তার এমপিও হয়েছিল ৯ কোডে। দুই বছর পরে তার এমপিও হয়েছিল ৪ কোডে। কিন্তু যোগদানের পর থেকে তিনি পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই ৪ কোডে প্রদত্ত ২০% বেতন ছাড়া ও অধিক হারে বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। সে ক্ষেত্রে তিনি ১ লাখ ৩ হাজার ১৮০ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন করেন। অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান আত্মসাতকৃত টাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, অনার্স ভবন মেরামত কাজের বাবদ ১৫ লক্ষ ২২ হাজার টাকা, ২০১১ সালের ছাত্র ছাত্রী ভর্তি বাবদ ৫৫ হাজার টাকা, যাতায়াত বাবদ ৫৫ হাজার টাকা, সোনালী ব্যাংকে ২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ২০১৫ সালে কলেজে আয় দেখানো হয়েছে ৯১,৫৮৫৮৭ টাকা, ব্যায় দেখানো হয়েছে ৮৫০৩৭৯৩ টাকা। কিন্তু অবশিষ্ট ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯৪ টাকার তিনি আত্মসাত করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ ড. মোঃ মাহবুবুর রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেসব মিথ্যাচার করা হয়েছে তার কোন সত্যতা নেই।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা