April 19, 2026, 10:29 am

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার বগুড়া সিটি কর্পোরেশন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধন করবেন।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেনের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

এর আগে, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পৌরসভার চার পাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে সময় ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয় বগুড়া পৌরসভা। পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল সে সময়। কিন্তু সরকারের নানা জটিলতার কারণে বগুড়া পৌরসভা আর সিটি কর্পোরেশন হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে বার বার সিটি কর্পোরেশনের দাবি জানানো হলেও তাও বাস্তবায়ন হয়নি।

অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসলে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হোসনা আফরোজা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব দেন। এরপর এক চিঠিতে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য গণবিজ্ঞাপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। পরে গত বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন এসে জানান ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরে আর সেটিও হয়নি।

এর আগে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদের সই করা এক নোটিশে জানানো হয়, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য রোববার প্রাক-নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস–সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সচিব কমিটির সভা হয়। সেখানে বগুড়া সিটি করপোরেশন উন্নীতকরণের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এসে সিটি করপোরেশনের ব্যাপারে জানাবেন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা