April 19, 2026, 10:27 am

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, চীনের মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলতার সুযোগে সীমিত পরিসরে ইরান থেকে জ্বালানি তেল কিনছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো এবং এর মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে চীনা ইউয়ানে। এসব লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে আইসিআইসিআই ব্যাংকের–এর মাধ্যমে। ভারতের আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে এসব লেনদেন করা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানে এমন চারটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরান ও রাশিয়ার জ্বালানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের জেরে বেড়ে যাওয়া তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই গত মাসে এ ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। এ পরিস্থিতিতে চীনা মুদ্রা দিয়ে ইরান থেকে ভারতের তেল কেনার খবর এল।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মাসের শুরুতে ভারতের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ‘ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন’ প্রায় ৯ বছর পর প্রথম ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এই চালানের তেলের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।

এ ছাড়া আরেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ইরানি তেল বহনকারী চারটি জাহাজ সম্প্রতি ভিড়তে দিয়েছে ভারত। এসব জাহাজের মধ্যে ‘এমটি ফেলিসিটি’ নামের একটি জাহাজ ইতিমধ্যে তেল খালাসও করেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন ও রিলায়েন্স—দুই প্রতিষ্ঠানই আইসিআইসিআই ব্যাংকের মাধ্যমে ইউয়ানে ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করে। ব্যাংকটি তাদের সাংহাই শাখার মাধ্যমে তেলের দাম পাঠাচ্ছে বিক্রেতাদের কাছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে আইসিআইসিআই ব্যাংক, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি রয়টার্স। তেহরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এ ধরনের তেলের মূল্য পরিশোধে জটিলতা থাকায় অনেক ক্রেতা আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধের জেরে তেলের মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে ইরানি তেল সমুদ্রে কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। অর্থাৎ ইরানের তেল কেনায় এই ছাড় আজ রোববার শেষ হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা