June 29, 2026, 9:01 am

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বাংলাদেশ: নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর। এখানে আমদানি-রপ্তানির অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বন্দরের সক্ষমতা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করার উদ্যোগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরকার-টু-সরকার (G2G) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) কাঠামোয় আলোচনা চলছে। বর্তমানে বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এনসিটি, যা ২০০৭ সালে নির্মিত হয় এবং ২০১৭ সালে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করে, বর্তমানে দেশের সর্বাধিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। তবে যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে ৭০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম। আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের উদ্দেশ্য আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। ডিপি ওয়ার্ল্ড উন্নত টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (TOS) এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়াতে সক্ষম।

ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টার্মিনাল অপারেটর, যা ৭০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সংযোজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এনসিটির পরিচালনায় তাদের সম্পৃক্ততা কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো এবং পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করার বিষয়ে নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রস্তাবিত চুক্তি কেবল টার্মিনাল পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে, যেখানে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগ বন্দর উন্নয়ন ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা