June 18, 2026, 6:45 pm

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৪১ শতাংশ বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে তাদের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের ২০২৫ সাল শেষের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের নামে পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। স্থানীয় মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ১৫৩ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকার কিছুটা বেশি। ২০২৪ সাল শেষে যা ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ফ্রাঁ এবং এখনকার বিনিময় হার ধরলে যার পরিমাণ প্রায় ৯০০০ কোটি টাকা।

গত পাঁচ বছরের মধ্যে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে সবচেয়ে কম জমা ছিল ২০২৩ সালে, যার পরিমাণ মাত্র ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ বা প্রায় ২৭০ কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি ছিল ২০২১ সালে ৮৭ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁ বা প্রায় ১৩ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা, গ্রাহক আমানত এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অর্থ এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা দিয়েছে, এসব অর্থ মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কিত পাওনা।

সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের একটি অংশ পাচার হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়। তবে পাচার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকি গ্রাহক আমানত হিসাবে কার কত অর্থ আছে তাও জানা যায় না। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গোপনীয়তার স্বার্থে সমস্ত ডাটা ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ’ নাম বার্ষিক প্রতিবেদনের সঙ্গে ‘সম্পূরক ডাটা’ হিসেবে সমন্বিতভাবে বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। সেখানে একটি অংশে দেশওয়ারি পরিসংখ্যান থাকে। আলাদাভাবে কোনো গ্রাহক বা ব্যাংকের তথ্য থাকে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে যে লেনদেন হয়, তা অর্থপাচার নয়। এই হিসাবের বেশিরভাগই আমদানি–রপ্তানি কেন্দ্রিক। ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সংসদে জানিয়েছিলেন, এর মধ্যে পাচারের সামান্য অর্থ থাকতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা