June 29, 2026, 10:14 am

প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ শিকার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি

সুন্দরবনে মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম চললেও অবাধে মৎস্য নিধন চলছে। নিষিদ্ধ বিষ প্রয়োগ, পাটা জাল এবং লোহার শিক ব্যবহার করে একশ্রেণির অসাধু জেলে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করছে। বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রজনন মৌসুমে বন প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়নি, ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে।

সরকার জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকার নিষিদ্ধ করেছে। এই সময়ে পর্যটন ও জেলেদের পাশ-পারমিটও বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের একটি চক্র বন বিভাগের অসাধু সদস্যদের উৎকোচ দিয়ে অবাধে বনে প্রবেশ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট হারে উৎকোচ দিয়ে তারা মাছ শিকার করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বনের গহীনে মাছ ধরার সময় নিষিদ্ধ বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা মাছের পোনা ও জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক। এছাড়া কাঁকড়া ধরার জন্য নদীর চরে আটন বসাতে গিয়ে সুন্দরী গাছের চারা নির্বিচারে কাটা হচ্ছে। ফিশ ফার্ম অনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) ও খুলনা কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান সাহীন বলেন, “প্রজনন মৌসুমে মাছ-কাঁকড়া নিধন বন্ধ না হলে এই প্রাকৃতিক সম্পদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “প্রজনন মৌসুমে বন প্রবেশ ও মাছ ধরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিছু জেলে লুকিয়ে বনে প্রবেশ করছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি এবং অবৈধ শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা