May 20, 2026, 4:39 am

পিবিআইয়ের অভিযানে অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার, মানব পাচার চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

গাজী সোহেল :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা। এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-৩১ (তারিখ ১৩ মে ২০২৬) মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর ৬/৭/৮/১০ ধারায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে এই সাফল্য পাওয়া যায়।

পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম)-এর সার্বিক নির্দেশনায় উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. ফরহাদ বিন করিমের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

পিবিআই জানায়, রোববার (১৮ মে) গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিন (২৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শিশুদ্বয়ের পিতা মেজবাহ উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরিয়ান (৫) ও আব্দুর রহমান জুবায়েত (২৮ দিন) নামে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে সংসারে কলহ সৃষ্টি করতেন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ দিতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় মেজবাহ উদ্দিন তার পরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী মা জানতে পারেন, শিশু দুটিকে পাচারের উদ্দেশ্যে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরপর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক শিশুপাচারের তথ্য-প্রমাণও মিলছে।
পিবিআই আরও জানায়, মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি একাধিক বিয়ে করে নিজের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত এমদাদুল হক রাব্বানীর পাঁচ দিনের এবং নুর-ই-নাসরিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মেজবাহ উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানিয়েছে, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আরও পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয় ২০২২ সালের এপ্রিলে। সে ঘটনার প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষেপে গিয়েছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে সোমবার ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’। এর একটি অংশে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং এতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে তারা গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার বরাত দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতিবেদনটির ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামের অংশে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করেন। এরপর রাশিয়াকে দমানোর বিষয়টি তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে। কোনো একটি পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য মার্কিন কূটনীতিকরা বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ওই সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব যখন বিভক্ত হতে শুরু করে, তখন আকস্মিক এক ঝড়ের মাঝে পড়ে পাকিস্তান। ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ইমরান খান ও ডোনাল্ড লু। ছবি: সংগৃহীত ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। সেদিনই পূর্ব নির্ধারিত একটি সফরে মস্কোতে অবস্থান করছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পুতিনের সঙ্গে তিনি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েকদিন আগে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে ফোন করেছিলেন জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন। ইউসুফ ও সুলিভানের ফাঁস হওয়া সেই ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ওই সফরের বিষয়ে ইসলামাবাদকে সতর্ক করেছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে তিনি পাকিস্তানকে চাপ দেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর খবর যেদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেদিনই পুতিন ও ইমরান খানের বৈঠকের একটি ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দুই নেতা করমর্দন করছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, কয়েক মাস ধরে ওই সফরটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই সেটি বাতিলের সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও ওয়াশিংটন বৈঠকটিকে সহজভাবে নেয়নি। পুতিন-ইমরান বৈঠকের কয়েকদিন পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব তোলা হয়। তাতে চীন, ভারত ও গ্লোবাল সাউথের বেশিরভাগ দেশ ভোট দিলেও পাকিস্তান বিরত থাকে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকরা এমনিতেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ফলে তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানাতে শুরু করেন, দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ইমরান খান ও ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি: এএফপি ২০২২ সালের ৭ মার্চ ডোনাল্ড লুর সঙ্গে বৈঠক করেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান। পরে মজিদ ও লুর কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় একটি কূটনৈতিক তারবার্তা ফাঁস হয়। যেটি সাইফার নামে পরিচিত। তারবার্তার বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান খানের সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের যে ক্ষোভ তা এড়ানো সম্ভব। লু আরো বলেছিলেন, ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ অর্থাৎ সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে। এই বাক্যটির উদ্ধৃতি দিয়ে পরে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’ পরের মাসে (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট একটি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পিটিআইয়ের যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন, তাঁদেরও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনের এসব বিষয় তখন এড়িয়ে যায়। ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ড্রপ সাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি, আদালত অবমাননা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের সরকার ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, সামরিক সমর্থনপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় বসে তা সরবরাহ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান গোপনে ইউক্রেনের কাছে গোলাবারুদ পাঠায়। ফাঁস হওয়া নথি থেকে জানা যায়, ওই অস্ত্রগুলো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছিল। বিনিময়ে পাকিস্তান পরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায়

ফেসবুকে আমরা