April 19, 2026, 11:31 am

তুলে নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ: এনসিপি নেতা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি ।

বগুড়ায় অর্থ আত্মসাৎ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব মিজানুর রহমান সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহরের জলেশ্বরীতলা কালী মন্দিরের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রুবেল প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি ২০১৪ সালের ৩০ আগস্ট রাতে সরকারি আজিজুল হক কলেজের সামনে চা পান করছিলেন। এ সময় মিজানুর রহমান সাগরসহ ৪ থেকে ৫ জন মোটরসাইকেলে সেখানে আসেন। তারা জোরপূর্বক রুবেল প্রামানিককে তুলে কলেজের অডিটোরিয়ামের পেছনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

রুবেল প্রামানিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২৮ হাজার ৩০০ টাকা ও ব্যাংকে থাকা আরও ২২ হাজার ৮০০ টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে রুবেল বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের জলেশ্বরীতলা কালী মন্দিরের সামনে থেকে মিজানুর রহমান সাগরকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিজানুর রহমান সাগর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা এনসিপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এসএমএ মাহমুদ জানান, মিজানুর রহমান সাগর তার সংগঠনের যুগ্ম সদস্যসচিব পদে আছেন। কেন্দ্রে তার কোনো পদ নেই। সাগরের বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ অক্টোবর মামলা হয়েছে। আর তিনি কমিটিতে আছেন ১ ডিসেম্বর থেকে। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার বিষয়টি জানা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, শিগগিরই সাগরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা