April 19, 2026, 9:38 am

ইউএস বাংলা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু স্বজনদের সঙ্গে তুলকালাম, সাংবাদিক লাঞ্চিতসহ আহত-৯

রুপগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা নিয়ে নিহত নবজাতকের স্বজনদেও সঙ্গে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। এসময় ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে দৈনিক কালবেলার স্থানীয় প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর ও লাঞ্চিত করেছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হামলায় নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধসহ বড় ধরণের কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে সাংবাদিকরা আলটিমেটাম দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিতরে এ ঘটনা ঘটেছে।
নবজাতক শিশুর পিতা শাহীন মিয়া জানান, তিনি তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মাহফুজা আক্তারকে ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রসবের সময় হলে ডাঃ সাবিহা শিমুল তার স্ত্রীকে ইনজেকশন দেয়। এরপর এ হাসপাতালে চিকিৎসা হবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরে ঢাকার মগবাজার আদ্বদীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার নবজাতক মারা গেছেন বলে ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনার বিষয় জানতে শিশুটির পরিবার ও স্বজনরা হাসপাতালে যায়। একপর্যায়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বজনদের উপড় চড়াও হয়। এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে তুলকালাম ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের লোকজনের হামলায় নবজাতকের স্বজন সানোয়ার সিকদার, আনোয়ার সিকদার, মাহমুদা আক্তার, আম্বিয়া খাতুন, আক্তার হোসেন, শাহীন মিয়াসহ ৯ জন আহত হয়। এ ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে দৈনিক কালবেলার রূপগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর মাহমুদকে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেধড়ক মারধর ও লাঞ্চিত করে। একপর্যায়ে তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে। খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর মাহমুদের সহকর্মী রুবেল সিকদার রক্ষা করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায়শ ভূল চিকিৎসায় মৃতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া চিকিৎসার সময় ডাক্তারদের অবহেলা ও গাফলতির অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা চিকিৎসার নামে রোগীদের গলা কাটে। এদিকে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সাংবাদিক লাঞ্চিত করার দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বড় ধরণের কর্মসূচীর ঘোষণা দিবেন সাংবাদিকরা।
রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খলিল সিকদার বলেন, ইউএস বাংলার বিরুদ্ধে প্রায়শ ভুল চিকিৎসা অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা চিকিৎসার নামে রোগীদের গলা কাটে। সাংবাদিক লাঞ্চিত ঘটনায় বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ধরণের ঘটনার ব্যপারে আমার জানা ছিলোনা। আপনাদের মাধ্যমে শুনলাম। অভিযোগ পাওয়া পর ব্যবস্থা নিবো।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান মাহমুদ রাসেল বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমার বরাবর অভিযোগ দিলে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।####

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা