দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচিতে হতদরিদ্র, ভূমিহীন, দিনমজুর ও অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্ধারিত আয়, সম্পদ ও অন্যান্য শর্তের কারণে আট শ্রেণির পরিবার এ সুবিধা থেকে বাদ পড়বে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভান্ডার নির্দেশিকা, ২০২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রকৃত অভাবী পরিবারকে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও বর্জনীয় শর্ত রাখা হয়েছে। বর্তমানে কর্মসূচির খসড়া প্রণয়ন ও উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না
১. সচ্ছল পরিবার: নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্টের (পিএমটি) স্কোরসীমা অতিক্রম করা মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত ও সচ্ছল পরিবার এ সুবিধা পাবে না।
২. সরকারি চাকরিজীবী পরিবার: পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত বেতন-ভাতাপ্রাপ্ত সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হলে পরিবারটি বাদ পড়বে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য।
৩. পেনশনভোগী পরিবার: মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলে পরিবারটি কার্ড পাবে না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য পাওয়া বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।
৪. বেশি আর্থিক আমানত রয়েছে এমন পরিবার: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বা সঞ্চয় থাকলে ওই পরিবার বাদ পড়বে।
৫. মোটরযানের মালিক পরিবার: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে সুবিধা পাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক ও সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলার এর অন্তর্ভুক্ত।
৬. বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিক: পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হালনাগাদ বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে পরিবারটি বাদ পড়বে।
৭. করযোগ্য আয় রয়েছে এমন পরিবার: পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর প্রদানকারী হলে এবং তাঁর করযোগ্য আয় থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমির মালিক: বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।
অগ্রাধিকার পাবেন যেসব পরিবার
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে কয়েক ধরনের পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবার: গ্রামীণ হতদরিদ্র, উপার্জনে সক্ষম সদস্যহীন পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবার।
অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার: বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ে রয়েছে, এমন পরিবারও বিবেচনায় থাকবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সদস্য থাকা পরিবার: শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সদস্য রয়েছে, এমন পরিবার। প্রত্যাগত অভিবাসী, বিশেষ করে নারী অভিবাসী সদস্য থাকা পরিবারও অগ্রাধিকার পেতে পারে।
কাঁচা ঘরে বসবাসকারী পরিবার: মাটি, বাঁশ বা পাটকাঠির দেয়ালযুক্ত ঘরে বসবাসকারী পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ভূমিহীন ও কৃষিনির্ভর পরিবার: বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, কিন্তু কৃষির ওপর নির্ভরশীল, এমন পরিবার ভূমিহীন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে, কিন্তু কৃষিজমি নেই, এমন পরিবারও শর্তসাপেক্ষে বিবেচিত হবে।
তথ্য যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকা
নীতিমালায় উল্লেখিত কোনো বৈশিষ্ট্য থাকলেই ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বর্জনীয় শর্ত যাচাই করে চূড়ান্ত উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করা হবে। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত অভাবী পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।