দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির পর ইরাক থেকে পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার দেশটিতে থাকা শেষ মার্কিন সেনারাও ইরাক ছাড়েন। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ঘিরে ইরাকজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। এ উপলক্ষে সরকার চার দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকার বলছে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসানের মধ্য দিয়ে ইরাক নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। এখন ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাকি বাহিনী সক্ষম বলেও দাবি করেছেন তিনি।
২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়। তখন দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা ছিল। গত বছর তাদের বেশির ভাগই প্রত্যাহার করা হয়। সর্বশেষ কিছু সেনা আধা স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন।
২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। পরে ২০১১ সালে বড় একটি অংশ প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে আবারও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে। বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হয়ে দেশের পুরো ভূখণ্ডে জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ আরও উন্মুক্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও। ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি এটিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর বলেন, মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার ফলে যে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, সেটি নিয়ে ইরাকিদের শঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরানে সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের প্রস্থান কৌশলগতভাবে ইরানের জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, এতদিন ইরাকে তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি একটি ভারসাম্য হিসেবে কাজ করেছে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা