জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে চতুর্থ দফার অনানুষ্ঠানিক ভোটেও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গোপন ভোটে তিনি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন।
প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে গ্রিনস্প্যান ১০টি ‘সমর্থন’, তিনটি ‘বিরোধিতা’ এবং দুটি ‘মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। গায়ানার জাতিসংঘবিষয়ক রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট পেয়েছেন আটটি ‘সমর্থন’, ছয়টি ‘বিরোধিতা’ ও একটি ‘মতামত নেই’ ভোট। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি পেয়েছেন আটটি ‘সমর্থন’ ও সাতটি ‘বিরোধিতা’ ভোট।
এর আগে জুলাই ও সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রথম ও তৃতীয় দফার ভোটেও গ্রিনস্প্যান সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। তবে আগস্টে দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছিলেন রদ্রিগেস-বিরকেট।
চলতি মাসে চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এখন সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দুই মেয়াদের দায়িত্ব এ বছরের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মহাসচিবকে একাধিক যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে অর্থায়ন কমে যাওয়া এবং বিশ্ব রাজনীতিতে জাতিসংঘের প্রভাব কমে যাওয়ার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করার পর বিষয়টি জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য যাবে।
জাতিসংঘের ৮০ বছরের বেশি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী মহাসচিবের দায়িত্ব পাননি। প্রার্থীদের নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোট আরও কয়েক দফা হতে পারে। এসব ভোটে সদস্যরা গোপন ব্যালটে প্রার্থীদের পক্ষে ‘সমর্থন’, ‘বিরোধিতা’ অথবা ‘মতামত নেই’—এই তিন ধরনের অবস্থান জানান।