September 30, 2026, 6:19 am

মঙ্গলবার লিসে দ্যু রোনে বিক্ষোভকারীরা আবর্জনার পাত্র পুড়িয়েছে। ছবি: আদ্রিয়েন পিটোর/সিপা/শাটারস্টক

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, আটক ৪৪০

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনে দেশজুড়ে ৪৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অনেকে আহত হয়েছেন। আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এসব আটকের ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে আসছেন। শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট ও কর্মপরিবেশসহ নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত ১০ জন শিক্ষক ও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪৮ সদস্যও। ফরাসি শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে অন্তত ৪০০টি স্কুলে।

বিক্ষোভের সময় কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া এবং বাসস্টপে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী এএফপিকে বলেন, তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ভাঙচুর নয়; বরং শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো তুলে ধরা। তার ভাষ্য, অনেক শ্রেণিকক্ষে ৩৪ জন করে শিক্ষার্থী থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতা ও স্কুল অবরোধের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইউনিয়ন সিন্দিকাল লিসেয়েন পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ দাবি করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপ ছিল সংযত ও আনুপাতিক।

ফ্রান্সের লিসে স্কুলগুলোতে গত সপ্তাহে প্যারিসের আশপাশের ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলে এই আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বিক্ষোভ থেকে ১৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

একই দিনে শিক্ষক, হাসপাতালকর্মী ও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকা দেশব্যাপী কর্মবিরতিও পালিত হয়েছে। কম বেতন ও কর্মপরিবেশসহ বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ২ লাখ মানুষ অংশ নেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে বেশিরভাগ জায়গায় কর্মসূচি বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা