September 9, 2026, 8:43 pm

১০৪ বছর বয়সে কারাগারে নুর মোহাম্মদ, দুই যুগ আগের জোড়া হত্যা মামলায় সাজা

নিজস্ব প্রতিনিধি:
দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে সংঘটিত ডাকাতি ও জোড়া হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে নুর মোহাম্মদের পক্ষে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান।

অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিশেষ আবেদন
আদালতে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়।

আইনজীবী আরও বলেন, নুর মোহাম্মদ স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করা হয়।

এ ছাড়া বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।

ডাকাতির ঘটনায় জোড়া খুন
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়।

ডাকাতেরা দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন।

পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি পরবর্তী সময়ে বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

প্রথম রায়ে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড
মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর রায় দেন ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামির মৃত্যু হয়।

উচ্চ আদালতে কমে ১০ বছরের সাজা
ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে অন্য আসামিদের সাজা বিভিন্ন মেয়াদে পরিবর্তন করা হয়।

সেই পর্যায়েই নুর মোহাম্মাদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের সময়ও ছিলেন পলাতক
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর মোহাম্মদ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।

দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা