September 10, 2026, 10:57 pm

রুমিনের বক্তব্য ঘিরে সংসদে হট্টগোল, অশালীন গালির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল’ নিয়ে আলোচনার সময় সরকারি দলের সদস্যদের হট্টগোলে কিছু সময়ের জন্য সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের আমলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট, দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপির বিষয় তুলে ধরে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না বা সারের সংকট দেখা দেবে না, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারের আমলে দেশ দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তার বক্তব্যে ঋণখেলাপির পরিমাণ ৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে।

এ সময় বর্তমান সংসদকে ‘অসহিষ্ণু’ আখ্যা দিয়ে রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্যদের একটি অংশ ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে উচ্চ আদালতে রিটের মাধ্যমে অনেকে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নেন।

রুমিনের বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি দলের সদস্যরা চিৎকার ও হট্টগোল শুরু করেন। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে মাইক বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি দাঁড়িয়ে বক্তব্য চালিয়ে যান। এ সময় তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, তাকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হচ্ছে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালাগাল করা উচিত নয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে প্রত্যেক সদস্যের নিজের বক্তব্য তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় হাউসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজ দলের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিফ হুইপের প্রতি আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

পরে আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় মনে হলে স্পিকার রুলিং দিতে পারেন অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তার জবাব দিতে পারেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। তাই সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকা প্রয়োজন।

অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদের এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা না করে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়া দুঃখজনক।

কালেরচিত্র/এমআ

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা