নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়ার জামগড়ায় আলোচিত ত্রিপল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত আলমগীর কবির নিজেই ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে আনেন। তাকে মারধর ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই ডেকে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে আলমগীর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুন নিহত হন। একই সময় নাজমার প্রসব হয়ে জন্ম নেওয়া নবজাতকেরও মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী।
তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বা সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজমা খাতুনের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথিত পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানার ছুটি শেষে পোশাককর্মী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং তার স্বামী পান-সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির (৪৫) বাসায় ফেরেন।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাসায় ফেরার পর আলমগীর ওই ব্যক্তিকে সেখানে ডেকে আনেন। তাকে মারধর করে সতর্ক করার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তবে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আলমগীর ও নাজমাকে হত্যা করা হয়।
এ সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমার প্রসব হয়ে একটি নবজাতকের জন্ম হয়। তবে নবজাতকটিও মারা যায়। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি তিনটি মরদেহ ঘরে রেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে পিবিআই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীরই ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে তিনজনের মৃত্যু হয়।
যেভাবে প্রকাশ পায় ঘটনা
নিহত নাজমা খাতুন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে। তিনি আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তার স্বামী আলমগীর কবির স্থানীয়ভাবে পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ায় হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে দম্পতির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। একই কক্ষ থেকে একটি মৃত নবজাতকের মরদেহও উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন মোছা. শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা ও এর পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।