জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের আসন শূন্য করার বিষয়ে দলটির আমির শফিকুর রহমানকে ‘বিনা পয়সায় বুদ্ধি’ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ শূন্য করার প্রসঙ্গ উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য হয় না। এ ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য নয়, যদি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য নিজে পদত্যাগ না করেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ শূন্য করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে। তবে আসনটি সত্যিই শূন্য করতে চাইলে ভিন্ন সাংবিধানিক পথ রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে। গাজী নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট না দিয়ে থাকলে, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ‘‘সেই জায়গায় কগনিজেন্সি নিয়ে যদি আপনারা স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেন, আমরা সেই হিসেবে বিধি মোতাবেক সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারি। এই বুদ্ধিটা বিনা পয়সায় দিলাম।’’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাঝে মাঝে তাদের এমন কিছু ‘টিপস’ দেন, যা তারা উপভোগ করেন। তাঁর ভাষায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে থাকলে সংসদ প্রাণবন্ত হয়, সেটি ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক।
গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, দল থেকে বহিষ্কারের পর তাকে ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করার সুযোগ নেই। কারণ, তিনি তখন আর দলের সদস্য ছিলেন না।
তিনি বলেন, নৈতিক কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে সংসদকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাই এমন একজন সংসদ সদস্যকে সংসদের কোনো কমিটিতে না রাখাই নৈতিকতার দিক থেকে উত্তম ছিল।
সম্প্রতি সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে গাজী নজরুল ইসলামের নাম রাখা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি ওঠার পর শেষ পর্যন্ত ওই কমিটি পুনর্গঠন করা হয় এবং গাজী নজরুল ইসলামের নাম বাদ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সাংগঠনিক তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার অভিযোগে গত জুলাইয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য করার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয় দলটি।