July 7, 2026, 12:52 pm

রূপগঞ্জে জিন তাড়ানোর নামে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন

মোঃ আবু কাওছার মিঠু-রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৫নং ক্যানেল এলাকায় তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর জিন ভর করেছে এবং জিন তাড়ানোর নামে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতসহ মানসিক অত্যাচার ও অপচিকিৎসা করার অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসায় ২৫০ জনের মধ্যে ১২৫ জনই ছাত্রী। পাশেই রয়েছে নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেকটি মাদ্রাসা। পাশের নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ কবিরাজের মাধ্যমে তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালান করেছে এমন অভিযোগ রয়েছে। গত পাঁচ দিন ধরে তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার ১৩ থেকে ১৪ শিক্ষার্থী অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে মাদ্রাসার শিক্ষকরা অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ওপর জিন তাড়ানোর নামে বেত্রাঘাত, মানসিক অত্যাচার ও অপচিকিৎসা শুরু করেন।
পাঁচ দিন আগে তিন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। তারা নিজেরাই নিজেদের আঘাত করতে থাকেন। এদের ভয়ে অন্য শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।

বাথরুমে যেতে পারছে না। মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী কমে যাচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন জিন তাড়ানোর নাটক সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা না করিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।
এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেক সময় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হয়ে ওঠে।

তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা খালেদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, পার্শ্ববর্তী নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ কবিরাজের মাধ্যমে তাদের মাদ্রাসার ক্ষতি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালান করেছে।
নূরে মদিনা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জুবায়ের আহমেদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর জিন চালানের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক ঘটনা।

তারা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আমার ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, মেডিকেল সাইন্স এর মতে জিন বলতে কিছুই নেই। যদি কোনো শিশু অসুস্থ হয় বা তার ব্যবহারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়, কিংবা মানসিক যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। তাকে কোনো এমবিবিএস ডাক্তার অথবা মানসিক রোগের ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। তার কোনো মানসিক বা অন্য সমস্যা আছে কি-না তা যাচাই করে চিকিৎসা দিতে হবে।

রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সিদ্দিক নুরে আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা