লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোছা. সাহিনা বেগম (১৫)। তিনি মো. সাইদুল ইসলামের মেয়ে এবং ছাবেরা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাহিনার বাবা-মা চাকরির কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি নানীর কাছে থেকে লেখাপড়া করতেন।
নিহতের নানী ও একই গ্রামের যুবক মো. শুভ ইসলামের মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় এক বছর ধরে সাহিনা ও শুভর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মধ্যে তাদের বিয়ের বিষয়েও একাধিকবার সামাজিকভাবে আলোচনা হয়। তবে উভয়েই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আইনগতভাবে বিয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
স্বজনদের দাবি, গত ৪ জুলাই সন্ধ্যায় সাহিনা ও শুভর দেখা হওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিকভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর জেরে সাহিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন।
পরিবারের দাবি, সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে স্কুলের টিফিনের সময় বাড়িতে এসে সাহিনা মোবাইল ফোনে শুভর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি নানীকে পাশের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর নানী ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। পরে প্রতিবেশী ও শুভ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে সাহিনাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তাকে দ্রুত নামিয়ে আনা হলেও তিনি তখন মৃত ছিলেন বলে স্বজনরা জানান।
এ ঘটনায় শুভর মা-ও গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়ে পারিবারিকভাবে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ।