রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে সশস্ত্র হামলায় তিনজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করুন) আহতদের স্বজন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত ইয়াকুব বেপারীর ছেলে জুল হোসেন রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— দেলোয়ার (৪০), ইমন (২৩) ও আলী (৪৫)। তারা বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে দেলোয়ার, ইমন ও আলী নাওড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় হাঁটতে গেলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় আহতদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন এবং আলীর গলায় থাকা প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও একদল হামলাকারী প্রবেশ করে পুনরায় ইমন ও আলীর ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— জাহিদ, ওমর ফারুক, রুবেল ওরফে রাউরাল রুবেল, শিপলু, রুবেল, মিনারুল, নুর হোসেন, আমিনুল, জহিরুল, স্বপন, সোহাগ, সিয়াম, এছেক কুলু, নাঈম, ইয়ারজুল, কাওছার, শাকিল ও দুলাল প্রধান। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”