আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংগঠক নেহা বোরার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তবে নেহার বক্তব্যে সরাসরি ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায়, ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। তার ভাষ্য, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভারতের তরুণেরাও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
ভিডিওতে নেহা বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের তুলনা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণদের লড়াইয়ের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
নেহার এই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটাতে চায়। তার দাবি, এটি কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়, বরং ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা। তবে এসব অভিযোগ বিজেপি নেতার রাজনৈতিক বক্তব্য; ভিডিওতে নেহা সরাসরি এমন কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক সপ্তাহের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। পরে আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তুলে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন নেহা বোরা। চলতি সপ্তাহে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলে যোগ দেন তিনি।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিবাদকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। যারা সংবিধান রক্ষার জন্য লড়াই করছেন, তাদের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি।
একই সাক্ষাৎকারে নেহা বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত দক্ষিণ এশিয়া ও একটি ভালো বিশ্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।