October 13, 2026, 2:17 am

নারায়ণগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, পূজায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার নির্দেশ

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ:

নারায়ণগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৮ এর সংসদ সদস্য মমতাজ আলো, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির, সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনউদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব নুরে আলমসহ বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও, সার্কেল অফিসার, র‍্যাব-১১, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভায় গত মাসের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চলতি মাসে পরিস্থিতি অধিকতর স্বাভাবিক ও সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করা হয়। মাদক, ছিনতাই, চোরাচালান, কিশোর গ্যাং, যানজট, অটোরিকশা ও সিএনজির বেপরোয়া চলাচল, বাল্যবিবাহ, পরিবেশ দূষণ, বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ এবং বিদ্যুৎ ও তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির জেলার আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি ইটভাটা, ডাইং ও নিটিং ফ্যাক্টরি পরিদর্শন, ইউনাইটেড অ্যাপারেলসের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, ৭০০ বিদেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষণ, পূজামণ্ডপ ও নদীপথে নিরাপত্তা এবং ৯টি মাদক নিরাময় কেন্দ্র মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবিরসহ উপস্থিত সকলেই মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপারের গৃহীত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান সমস্যা যানজট। বিশেষ করে চাষাঢ়া, কালিরবাজার, দ্বিগুবাবুর বাজার ও মেট্রো হল এলাকায় অটোরিকশা ও সিএনজির বেপরোয়া সংখ্যা বৃদ্ধি যান চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন সম্মিলিতভাবে কাজ করার ফলে যানজট এখন অনেকটাই নিরসনের পথে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা জনবান্ধব পুলিশিংয়ে বিশ্বাস করি। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে। মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। অপরাধ সংঘটিত হলে সাথে সাথে মামলা রুজু ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যে দলেরই হোক।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি মণ্ডপে ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স, গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসি ক্যামেরা মনিটরিং থাকবে। নদীপথে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সকলের সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা নিশ্ছিদ্র
নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা