October 12, 2026, 10:28 pm

সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বাবার লাশ দাফনে বাধা

রিয়াজুল হক সাগর রংপুর প্রতিনিধি :

মৃত্যুর পরও মেলেনি শান্তি। সম্পত্তির ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ভাইবোনের মধ্যকার বিরোধের জেরে আটকে গেছে বাবার জানাজা ও দাফন। সম্পত্তির ন্যায্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মেয়ে।

হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বক্সীগঞ্জ গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭৫)। পেশায় কৃষক এই ব্যক্তি সোমবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় নিজ বাড়ির আঙিনায় নাজির উদ্দিনের জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার মুহূর্তে বাধ সাধেন নাজির উদ্দিনের মেয়ে হালিমা বেগম। তার অনড় অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা সম্পন্ন করা হয়নি। বিকাল ৪টা গড়ালেও বাবার কাফন জড়ানো মরদেহ বাড়ির উঠানেই খাটিয়ায় পড়ে আছে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নাজির উদ্দিনের এক ছেলে ইদ্রিস আলী এবং এক মেয়ে হালিমা বেগম। মেয়ে হালিমার অভিযোগ, তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ভাই ইদ্রিস আলী কৌশলে সসব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এর ফলে তিনি পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। এ অবস্থায় হালিমা সাফ জানিয়ে দেন—বাবার সম্পত্তিতে তার আইনি ও শরীয়তসম্মত অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনোভাবেই দাফনের অনুমতি দেবেন না।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন এগিয়ে আসেন। ঘটনা মীমাংসা করতে স্থানীয়ভাবে হালিমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়। তবে সেই আর্থিক প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন হালিমা। তিনি টাকার বিনিময়ে নয়, বরং দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিতে নিজের স্থায়ী ও আইনি অধিকার আদায়ের দাবিতে অনড় থাকেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি ছেলে ইদ্রিস আলী। তবে বিএনপি নেতা রুহুল আমিন জানান, ঘটনাটি তার বাড়ির পাশে। খবর পেয়ে নিজেই উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চালান। কিন্তু হালিমার অনড় অবস্থানের কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বৃদ্ধের জানাজা কিংবা মরদেহ দাফন করা যায়নি।

একই কথা বলেছেন ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন। তিনি বলেন, ‌‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার মতো এমন ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমরা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একটি সুষ্ঠু সমাধান এলেই দ্রুত জানাজা ও মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।’

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বর্তমানে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যদি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা না যায়, তাহলে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা