দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এরই অংশ হিসেবে কানাডা থেকে দুগ্ধজাত পণ্য, অধিকাংশ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় ও মোটরসাইকেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হোয়াইট হাউস। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তের আগে একই দিন প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে কানাডা। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডীয় পণ্যকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ক্রয়চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (জিএসএ) নির্দেশ দিয়েছেন, কানাডা মার্কিন পণ্যের জন্য ‘সম্পূর্ণ ও ন্যায্য পারস্পরিক সুযোগ’ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত দেশটির পণ্যকে সরকারি চুক্তির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে।
এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বাড়ানোই এখন তাদের অন্যতম লক্ষ্য। কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে কানাডা যেন জিম্মি না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চান তারা।
গত ২২ আগস্ট কানাডীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। এর ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে।
এর জবাবে কানাডা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, পনির, প্রসাধনী ও কৃষিসরঞ্জামসহ শত শত মার্কিন পণ্যে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৬ শতাংশ, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার, এসব পাল্টা শুল্কের আওতায় পড়বে।
এদিকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য দেশটির জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্নির আহ্বানে অনেক কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি মার্কিন পণ্য বর্জন শুরু করেছেন।
তবে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঙ্কের মুখপাত্র গাব্রিয়েল ব্রুনেট।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)