August 13, 2026, 1:28 pm

সংকটে বন্য হাতি: আবাসস্থল ও করিডর হারানোর ফলে বিপন্ন প্রজাতি

সংকটে বন্য হাতি: আবাসস্থল ও করিডর হারানোর ফলে বিপন্ন প্রজাতি

বাংলাদেশে বন্য হাতির অস্তিত্ব বর্তমানে বড় ধরনের সংকটে রয়েছে। পার্বত্য এলাকায় মাংসের জন্য হাতি হত্যার ঘটনা ঘটছে, পাশাপাশি হাতির নিরাপদ আবাসস্থল ও চলাচলের প্রাচীন করিডর ধ্বংস হচ্ছে। বন উজাড় ও প্রাকৃতিক বনভূমির পরিবর্তনের কারণে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।

আজ ১২ আগস্ট পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাতি দিবস। প্রতিবছর এই দিবসটি পালিত হলেও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থার (আইইউসিএন) লাল তালিকায় হাতি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বাংলাদেশে হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে আবাসস্থল ধ্বংস, করিডর দখল ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। আইইউসিএন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জরিপে ১২টি হাতির চলাচলের করিডর চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান অঞ্চলের করিডর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের চুনতি-সাতগড় করিডর বর্তমানে অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। রেললাইন নির্মাণের কারণে হাতির চলাচল কমে গেছে, ফলে হাতির প্রজনন ও বংশবিস্তারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাতির খাদ্যের সংকট তীব্র হচ্ছে, কারণ প্রাকৃতিক বন ধ্বংস করে সেখানে গাছের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন প্রায় ২৫০ কেজি খাবারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু খাদ্য সংকটের কারণে হাতির দল লোকালয়ের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে।

২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে অন্তত ১৪৮টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব মৃত্যু দেশের জীববৈচিত্র্যের ওপর বড় আঘাত। হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সুরক্ষিত না হলে দেশের বন্য হাতির সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা