April 19, 2026, 9:38 am

সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলায় গ্রেফতার ৫ সন্ত্রাসী কারাগারে

ডেমরা (ঢাকা) প্রতিনিধি ঃরাজধানীর ডেমরায় সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা ও বেধরড়ক মারধরের ঘটনার মামলায় গ্রেফতার ৫ সন্ত্রাসীকে মঙ্গলবার বিকালে কারগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সংবাদ সংগ্রহের ভিডিও ধারনকালে সোমবার বিকালে ডিএসসিসির ৬৪ নং ওয়ার্ডের ইষ্টার্ন হাউজিং প্রকল্পে ওই সন্ত্রাসীরা ৫ জন সাংবাদিকের ওপর এ হামলা ও মারধর করা হয়। এ সময় খবর পেয়ে ডেমরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের উদ্ধারসহ ওই ৫ সন্ত্রাসীকে আটক করেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতেই মো. মাকসুদুল আলম নামে দৈনিক আওয়ার বাংলাদেশ পত্রিকার এক সাংবাদিক অভিযুক্ত ৮ জনসহ অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৫ জনকে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. জাহিদুল সরকার (৩৮), মো. সোহেল (৩৮), ফরিদ আহম্মেদ (৪০), মো. কামাল হোসেন (৫০) ও মো. সেলিম রেজা (৩১)। এ ঘটনায় জড়িত ইমরান (৩৫), প্লাবন (৪০) ও সবুজ (৩৩) সহ অজ্ঞাত ২/৩ জন পলাতক রয়েছেন। এদিকে সাংবাদিকদের মারধরের এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠেছে এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেমরা থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ইষ্টার্ন হাউজিং প্রকল্পের রাজন মিয়ার বাড়ির দক্ষিন পাশে রাস্তার উপর রাজউকের ইমারত আইন না মেনে ভবন নির্মাণের স্বচিত্র তথ্য অনুসন্ধানের কাজ করছিলেন আওয়ার বাংলাদেশ পত্রিকার বাদীসহ ৫ জন সাংবাদিক। অফিসিয়াল এ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মো. শরিফুল ইসলাম (৩৩) নামে এক সাংবাদিককে সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে থাকা লাঠি সাঠো, লোহার রড ও বাঁশ দিয়া এলোপাতারীভাবে মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় বাদীর হাতে থাকা প্যানাসনিক পিভি ১০০ ক্যামেরা ও ক্যামেরার ষ্ট্যান্ড ভাঙ্গাসহ একটি ব্লুটুথ চুরি করে অনুমান দুই লক্ষ ৬ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে তারা। এ ঘটনায় ডাকচিৎকার শুনে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করার সময় ওই ৫ জনকে আটক করে পুলিশ।

ওসি মো. জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক মো. শরিফুল ইসলামকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পলাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা