October 29, 2026, 10:52 am

আমতলীতে সাত মামলার আসামি চম্পা গ্রেপ্তার

বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের চম্পা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে আমতলী থানা পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চম্পা বেগমকে স্থানীয়ভাবে ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তিনি বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আইনগতভাবে প্রমাণসাপেক্ষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চম্পাকে গ্রেপ্তারের জন্য এর আগে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আমতলী থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চম্পা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর কথিত অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তাঁর বাড়িতে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি দল তাঁর কথিত অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

চম্পা বেগম আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামের মৃত আবদুল হক বিশ্বাসের মেয়ে।

আমতলী থানা সূত্রে জানা গেছে, চম্পা বেগমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি মামলা রয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি মাদক কারবারি ও তাঁদের সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য উপজেলার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে চম্পা বেগমের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে মাদক কারবারের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা