October 22, 2026, 9:19 am

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিলেন ৭ সন্তান

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন এক ছেলে ও ছয় মেয়ে। সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহ দাফন করতে দেবেন না বলে জানান তারা। পরে দিনভর আলোচনা ও দেনদরবারের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুর রব। ৯৫ বছর বয়সী আব্দুর রব ২০ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টার দিকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রবের ১০ সন্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তার মেজো ছেলে সালাউদ্দিন ও সেজো ছেলে আলাউদ্দিন বাবার জীবদ্দশায় কৌশলে সব সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অন্য সন্তানেরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইবোনদের মধ্যে দূরত্ব ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাবার জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলে বাধা দেন ছোট ছেলে সাইদুর রহমান ও ছয় মেয়ে। সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত তারা মরদেহ দাফন করতে দেবেন না বলে জানান। এতে আটকে যায় দাফনের কার্যক্রম।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিস-বৈঠক ও আলোচনা হয়। তবে শুরুতে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় সন্ধ্যা পর্যন্ত। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যস্থতায় বিরোধ নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আব্দুর রবের মরদেহ দাফন করা হয়।

স্থানীয় মসজিদের সভাপতি মো. সামছুল হক বলেন, পরিবার ও সমাজের কাউকে না জানিয়ে আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন বাবার কাছ থেকে সব সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে ছোট ছেলে সাইদুর রহমান বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার নামানোর জন্য খতিয়ান ও দাগ নম্বরের প্রয়োজন হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর ভাইবোনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত দুই ভাই সেখানে উপস্থিত হননি।

মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমদ বলেন, বুধবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ শ্রীধরপুর গ্রামে মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সবার সম্মতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা