September 29, 2026, 6:54 pm

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত রাখার পক্ষে সরকার: সালাহউদ্দিন

প্রধানমন্ত্রী পদে কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করার প্রস্তাবের পক্ষে সরকার রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের চলমান আলোচনায় বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই প্রস্তাবকে কেউ কেউ অগণতান্ত্রিক ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মত দিয়েছেন। তবে কোনো ব্যক্তি যাতে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই তাদের পক্ষ থেকে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থান থেকে তারা সরে আসেননি বলেও জানান তিনি। তবে বিরোধী দল বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে বিকল্প প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

সংবিধানের অন্যান্য সংশোধনীর বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র। তবে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে সেভাবেই এগোনোর কথা ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেবে।

সংবিধান সংশোধনের আলোচনায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটিতে সদস্য মনোনয়ন দিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘জুলাই সনদ’-এর কোনো বিষয়ে তাদের ভিন্নমত থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা সমঝোতার ভিত্তিতে বিবেচনা করা যেতে পারে।

কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক শক্তি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং গত ১৭ বছরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।

এ ছাড়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গেও পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনা করবে বিশেষ কমিটি। সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এরপর ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিল পাসের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা