September 29, 2026, 4:01 pm

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধে কঠোর নির্দেশনা

ইসলামি ধারার ব্যাংকের ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড’ পরিচালনায় পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কার্ডের ব্যবহার, ব্যাংকের সেবামূল্য, গ্রাহক সুরক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অননুমোদিত লেনদেন প্রতিরোধে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দেশের সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে শরিয়াহবিরোধী বা বেআইনি কোনো পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে না। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল, জুয়া, নাইটক্লাব, প্রচলিত বিমা, অবৈধ ডেটিং বা ম্যাচমেকিং এবং শূকরের মাংসসংক্রান্ত ব্যবসা।

নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন ঠেকাতে ব্যাংকগুলোকে সিস্টেম পর্যায়ে ‘মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড’ ব্লক করে রাখতে হবে। কোনো গ্রাহক বেআইনি লেনদেন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

কার্ড ইস্যু, নবায়ন, প্রতিস্থাপন, নেটওয়ার্ক সুবিধা ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ব্যাংক ‘উজরহ’ বা সেবামূল্য নিতে পারবে। তবে গ্রাহকের বকেয়া, ঋণসীমা বা বিল পরিশোধে বিলম্বের ওপর ভিত্তি করে এ মাশুল পরিবর্তন করা যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলেও বিলম্ব জরিমানা ব্যাংক নিজস্ব আয় হিসেবে নিতে পারবে না। চুক্তির সময় গ্রাহককে নির্দিষ্ট অর্থ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ওই অর্থ ব্যাংকের মূল আয়ের বাইরে পৃথক দাতব্য হিসাবে সংরক্ষণ করে শরিয়াহ কমিটির তত্ত্বাবধানে দান করতে হবে।

গ্রাহক সুরক্ষায় কার্ড চালুর আগে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্ডের তথ্য সুরক্ষিত রাখা এবং ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হারানো বা চুরি হওয়া কার্ড ব্লক করার অনুরোধ পাওয়ার পর সাত কার্যদিবসের মধ্যে অননুমোদিত লেনদেনের অর্থ গ্রাহককে ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালিত হবে ‘কর্জ হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ এবং ‘উজরহ’ বা সেবামূল্যের ভিত্তিতে। প্রচলিত ক্রেডিট কার্ডের মতো গ্রাহকের ঋণ থেকে ব্যাংকের আয় করার সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি গ্রাহক যাতে তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত ব্যয় না করেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবন্ধিত ইসলামি ব্যাংক এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামিক উইন্ডো বা শাখা এ ধরনের কার্ড ইস্যু করতে পারবে। বৈদেশিক মুদ্রা বা দ্বৈত মুদ্রার ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা