দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দফায় কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকায়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। এ দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। এ পরিস্থিতিতে সার্বিক বাজার বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন ও ধরন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানেই আবারও কমল স্বর্ণের দাম।
চলতি বছরে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১১৯ দফা স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬০ দফা কমানো হয়েছে এবং এক দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।
কমেছে রুপার দামও
স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩১৬ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ দফা দাম বেড়েছে এবং ৩৭ দফা কমেছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।