জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্রান্তিকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা বিদ্যমান সংবিধানের ১৫৩টি অনুচ্ছেদের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সাংবিধানিক শূন্যতা ও রাজনৈতিক রূপান্তরের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে জনগণের অবিভাজ্য ‘গাঠনিক ক্ষমতা’ বা ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’-কে বিবেচনায় নিতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে বর্তমান সাংবিধানিক সংকট ও তা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু সংবিধানের ধারা ও উপধারার আক্ষরিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করলে আইনি জটিলতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সংবিধানকে যথাযথভাবে বুঝতে এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভিন্ন ধারণা, সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় এবং আন্তর্জাতিক সাংবিধানিক আইনের বিশেষজ্ঞদের মতামতও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে তিনি পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন। এগুলো হলো সংবিধান ও সাংবিধানিক আইন, সংশোধন বনাম সংস্কার, গণভোট ও ভিন্নমতের মর্যাদা, ক্রান্তিকালীন সময় এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে আইনি অবস্থান।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সংবিধানে আংশিক পরিবর্তনের পরিবর্তে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। জুলাই সনদের মূল চেতনাও কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ সাধারণ সংশোধনীর মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায় না বলেও সতর্ক করেন এই আইনজীবী। তাঁর ভাষ্য, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিবর্তন কেবল সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে আইনত কার্যকর করা সম্ভব নয়।
সংস্কার বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ২৬৬ বিধির কথা উল্লেখ করেন শিশির মনির। তিনি বলেন, এই বিধির অধীনে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনে আইনগত কোনো বাধা নেই।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গণভোটের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, উচ্চকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিষয়ে গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ বললে সেটি জনগণের সরাসরি দেওয়া ম্যান্ডেট হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিশির মনির বলেন, এমন গণম্যান্ডেটের বিপরীতে কোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্নমতকে বিকল্প হিসেবে দেখা যায় না। জনগণের সরাসরি রায়ের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া সামগ্রিক গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি