দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া ও কারিগরি জটিলতার কারণে রোববার সকালে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে।
কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার আগে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এদিকে ২ নম্বর ইউনিটের ত্রুটি নিরসনে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত তারা রামপালে পৌঁছাননি। ফলে ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বুধবার বিকেলে বলেন, বয়লারের প্রাথমিক কাজ দেশীয় প্রকৌশলীরা শুরু করেছেন। ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছানোর পর বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা আসার পর ইউনিটটি চালু করতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো তারিখ জানাতে পারেননি তিনি।
বিআইএফপিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের এনটিপিসির মধ্যে চুক্তি সই হয়। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড গঠিত হয়।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণের পর প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘ নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। পরের বছর ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়। ২০২৪ সালের ১২ মার্চ কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।
তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে কারিগরি ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়েছে ৩০ বারের বেশি। এর আগে নানা সমস্যার কারণে কেন্দ্রটি কখনোই পূর্ণ ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে পারেনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ২ নম্বর ইউনিটের বয়লারের ত্রুটি নিরসনে কাজ চলছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা পৌঁছানোর পর কাজের অগ্রগতি ও ইউনিটটি পুনরায় চালুর সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।