September 16, 2026, 6:33 pm

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নতুন সুবিধার পরিকল্পনা। ছবি: এআই

সর্বজনীন পেনশনে আসছে নতুন সুবিধা, আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী-স্ত্রী

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে বেশ কিছু নতুন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব, স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা এবং নির্দিষ্ট শর্তে পেনশন পাওয়ার বয়স কমানোর বিষয় রয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। পদাধিকারবলে অর্থমন্ত্রী জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা। পর্ষদের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন করা সম্ভব হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন সুবিধাগুলো চালু করা যেতে পারে।

বর্তমান নিয়মে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহক ৬০ বছর বয়সে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু করেন। পেনশন চলাকালে গ্রাহকের মৃত্যু হলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি গ্রাহকের ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সমহারে মাসিক পেনশন পান।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেই ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বজনীন পেনশনেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কমতে পারে পেনশনের বয়স

সর্বজনীন পেনশন পাওয়ার নির্ধারিত বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাবও পর্ষদ সভায় আলোচনায় আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সভার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

চালুর তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ হিসাবে এসব স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জন্য চালু করা ‘সমতা’ স্কিমে সবচেয়ে বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। এ স্কিমে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করেছেন। তাদের জমা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে প্রবাসীদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে কম। এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী এতে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৭ জন নারী। এ স্কিমে মোট জমা হয়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

চালু হতে পারে ঋণ ও বিশেষ এক্সিট সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন আইনে বিশেষ প্রয়োজনে গ্রাহকের জমা অর্থের একটি অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ঋণের সুদও গ্রাহকের হিসাবেই জমা হওয়ার কথা। তবে এখনো এই সুবিধা কার্যকর হয়নি। নতুন সংস্কারের অংশ হিসেবে ঋণ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া অন্তত পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হতে চাইলে বিশেষ বিবেচনায় তার পুরো জমা অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ চালুর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এ ধরনের এক্সিট সুবিধা নেই।

স্বাস্থ্যবিমা ও শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বিমা সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পেনশনারদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিমা সুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে প্রায় ১০ থেকে ২০ টাকা নামমাত্র প্রিমিয়াম নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে শরিয়াহভিত্তিক একটি সংস্করণ চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পর্ষদ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় বিধিমালা সংশোধন ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত নতুন সুবিধাগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা