September 15, 2026, 4:50 pm

দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার নিয়োগে এখনো ভারতের সম্মতি মেলেনি

বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবে এখনো আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি ভারত। এক মাসেরও বেশি আগে ঢাকার পক্ষ থেকে তার নিয়োগের জন্য ভারতের কাছে ‘অ্যাগ্রেমা’ চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত জুলাইয়ে বিভিন্ন দেশে নতুন রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং তার নিয়োগের বিষয়ে নয়াদিল্লির সম্মতি চাওয়া হয়।

কূটনৈতিক রীতি অনুযায়ী, কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের ‘অ্যাগ্রেমা’ বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হয়। স্বাগতিক দেশের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা যায় না।

কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাগতিক দেশের সম্মতির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত কোনো কূটনীতিককে গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে স্বাগতিক দেশ বাধ্য নয়। এ কারণে সাধারণত এ ধরনের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আনা হয় না।

বর্তমান হাইকমিশনারের নতুন দায়িত্ব

বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।

আসাদ আলম সিয়ামকে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন

দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন চলার সময় দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের বিষয়টি আটকে রয়েছে।

গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। এরপর গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও তিনি অংশ নেননি। বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তাকে ওই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশও সম্মেলনে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।

তবে রাজনৈতিক অস্বস্তির মধ্যেও দুই দেশের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত সপ্তাহে ঢাকায় দুই দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান সরকারে আসার পর গত সাত মাসে দুই দেশ বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি পর্যায়েও যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। তবে রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে সামগ্রিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়ছে।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানও আলোচনায়

দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান জটিলতার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকেও অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দ্য প্রিন্ট।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। তিনি এখনো দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও ভারত এখনো তাতে সাড়া দেয়নি।

এ পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছে দুই দেশ।

চলতি বছরের শুরুতে ভারত সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। জুনের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রীর মর্যাদায় তাকে এই দায়িত্ব দেওয়াকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে আবারও শীতলতা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগের বিষয়ে ভারতের সম্মতি না মেলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা