দীর্ঘ দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কার্গো আসতে শুরু করায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ৯৮ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে।
দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের সঙ্গে এলএনজি যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে মোট দৈনিক গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুটে। নতুন কার্গোগুলো নিয়মিত দেশে পৌঁছালে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। নিয়মিত এলএনজি কার্গো না আসায় গতকাল সরবরাহ কমে ২৩৭ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল মাত্র ৭৫ কোটি ঘনফুট।
বর্তমানে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ১৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোয় মোট সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তারা জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও দরপত্রসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
নিশ্চিত হওয়া কার্গোগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর থেকে দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আরামকো থেকে দুটি এবং স্পট মার্কেট থেকে পাঁচটি কার্গো সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরামকো ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের কার্গোর পর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান পস্কোর একটি কার্গো থেকেও এলএনজি খালাস করা হয়েছে।
এ ছাড়া গানভর, আরামকো ও টোটাল এনার্জির বাকি কার্গোগুলো ১৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অক্টোবরের জন্য এরই মধ্যে ছয়টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও পাঁচটি কার্গো সংগ্রহের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
দেশে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
গত ২১ জুলাই একটি দুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২৫ দিনের তীব্র সংকটের পর ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলেও পর্যাপ্ত নতুন কার্গো না থাকায় এতদিন এলএনজি সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে দেশে ২১টি এলএনজি কার্গো এলেও চলতি বছর একই সময়ে এসেছে মাত্র ১৫টি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সময়মতো না পাওয়ায় ঘাটতি পূরণে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।