September 15, 2026, 11:23 am

হাসিনার সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের আবহে ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতার ফোনে কথা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়েছে। দিল্লির একটি সাংবাদিক সূত্র এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত না করলেও জানিয়েছে, বিষয়টি অসম্ভব নয়। কেননা, এই সব রাষ্ট্র নেতাদের অধিকাংশের সঙ্গে হাসিনা তার শাসনামলে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। অনেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও ছিল তার। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠতার কথা সর্বজনবিদিত।

তবে বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে সমাজমাধ্যম এবং কূটনৈতিক মহলে প্রবল আলোচনা চলছে। নয়াদিল্লিতে থাকার সময় পুতিন নাকি শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। অনলাইনে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের সময় প্রায় ২০ মিনিট হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন পুতিন। সেই সময় সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই ফোনালাপের খবর এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ভারত সরকার, রাশিয়া বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতিও দেয়া হয়নি। কথোপকথনের কোনও বিবরণও প্রকাশ্যে আসেনি।
হাসিনার শাসনামল থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি হওয়া বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর প্রকল্প দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রূপপুর প্রকল্প শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উপস্থিতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে পুতিন-হাসিনা ফোনালাপের খবর সত্যি হলে রাশিয়ার বাংলাদেশ নীতি এবং হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের আরএসএস সমর্থিত সংবাদপত্র অর্গানাইজারে বলা হয়েছে, পুতিন ও হাসিনার মধ্যে যে ফোনালাপের খবর পাওয়া গেছে, তা রাশিয়ার স্বার্থের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেলবন্ধন তৈরি করে—যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তাদের বিশাল বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার মতো বিষয়টি।

অর্গানাইজারে আরও লেখা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার ঠিক পরপরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘নতুন করে সাজানোর’ বিষয়ে বাংলাদেশের আকস্মিক পদক্ষেপটি পরিবর্তনশীল কূটনৈতিক সমীকরণের দিকে নতুন করে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং কূটনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরের মধ্যেই এই ঘটনাটি সামনে এলো যে, নয়াদিল্লিতে অবস্থানকালে ভ্লাদিমির পুতিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছেন।
মানবজমিন থেকে :

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা