September 12, 2026, 4:25 pm

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের বিরোধিতা ব্রিকস নেতাদের । ছবি: সংগৃহীত

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের উদ্যোগের বিরোধিতা ব্রিকসের

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার যেকোনো উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। একই সঙ্গে গাজা, ইরান ও ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নিউ দিল্লি ঘোষণা’য় এসব অবস্থান তুলে ধরা হয়। দুই দিনের এই সম্মেলনে সদস্যদেশগুলোর নেতারা গাজা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক সংঘাত, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।

ঘোষণায় গাজায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া যেকোনো নীতি বা পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ব্রিকস নেতারা বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার ক্ষুণ্ন করে, দখলদারত্বকে বৈধতা দেয় কিংবা তা দীর্ঘায়িত করে।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়েই সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকারসহ তাদের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অধিকৃত জেরুজালেমের আইনগত ও ঐতিহাসিক অবস্থান পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নেওয়া একতরফা পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। একই সঙ্গে শহরটির ধর্মীয় স্থাপনা ও পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল)-এর স্থাপনা ও সদস্যদের ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছে জোটটি। এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগের আহ্বান

বিশ্বজুড়ে বিভাজন ও অবিশ্বাস বাড়ছে উল্লেখ করে ব্রিকস নেতারা সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাতের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জোটটি।

পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

পারমাণবিক সংঘাতের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিকস। এ ঝুঁকি কমাতে নিরস্ত্রীকরণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেসামরিক অবকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত পারমাণবিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার বিষয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। যুদ্ধকালেও পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে, এতে মানুষের জীবন ও পরিবেশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

একতরফা শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে ব্রিকস। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ একতরফা শুল্ক ও অশুল্ক বাধা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ জানিয়েছে জোটটি।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, একতরফাভাবে শুল্ক ও অশুল্ক ব্যবস্থা আরোপের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা বিকৃত হচ্ছে, যা ডব্লিউটিওর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’-এরও বিরোধিতা করেছে ব্রিকস। এসব পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এসব পদক্ষেপে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে ঘোষণায় বলা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা