September 9, 2026, 4:45 am

দুই দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ৬৭০ কোটি টাকা তুলেছেন ১৪ হাজার গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা দ্বিতীয় দিনেও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তাদের আমানতের টাকা উত্তোলন করেছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনে দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে ১৪ হাজার গ্রাহক মোট ৬৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন।

ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই দুই দিনে মোট ৩৭ হাজার ৬০০ গ্রাহক ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। তবে আবেদনকারীর তুলনায় প্রকৃত অর্থ উত্তোলন করেছেন উল্লেখযোগ্যভাবে কমসংখ্যক গ্রাহক।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুই দিনে আবেদন করা ৩৭ হাজার ৬০০ গ্রাহকের মধ্যে ১৪ হাজার গ্রাহক তাদের আমানত তুলে নিয়েছেন। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে টাকা উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। প্রথম দিন যারা ব্যাংকে যেতে পারেননি, তাদের অনেকে দ্বিতীয় দিন শাখায় এসে টাকা উত্তোলন করেছেন। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করেছে বলেও জানান তিনি।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদনকারীদের তুলনায় বাস্তবে খুব কমসংখ্যক গ্রাহক আমানত তুলে নিচ্ছেন। অনেক গ্রাহক ব্যাংকের লেনদেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে টাকা না তুলেই ফিরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শাখায় নতুন করে আমানত হিসাব খোলার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত হয়। পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত নতুন ব্যাংকটির মোট শাখার সংখ্যা ৭৬১টি।

সূত্র জানায়, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানত থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি রয়েছে।

আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধে গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে। পরে সোমবার সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানো হয়।

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই আমানতের টাকা তুলতে ব্যাংকে ভিড় করেন গ্রাহকেরা। তাদের অনেকেই কোনো জটিলতা ছাড়াই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় টাকা উত্তোলন করতে পেরেছেন।

দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের টাকা হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন গ্রাহকেরা। ব্যাংকের লেনদেন স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হওয়ায় তাদের মধ্যে সন্তোষও দেখা গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা