দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থেকে ঘোষিত স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের কাছ থেকে আবেদন নিয়ে টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অর্থ ফেরত নিতে গিয়ে বড় ধরনের কোনো জটিলতার খবর পাওয়া যায়নি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার গ্রাহক তাদের আমানত থেকে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন। গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে বিশেষ ব্যবস্থায় আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একীভূত ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।
এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্য চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম)-এর হাতে।
বিশেষ ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সংকটে থাকা এই পাঁচ ব্যাংককে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে। সুদসহ সেই অর্থের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো এবং ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন করে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ করা হবে। এ নিয়ে গ্রাহকদের আতঙ্কিত বা তাড়াহুড়ো করার কোনো কারণ নেই।
মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে পুরো অর্থ ফেরতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্কিমও ঘোষণা করেছে।
তবে ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের আবেদনের ভিত্তিতেও অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
মুনাফা নয়, আপাতত মূল টাকা তোলার সুযোগ
গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরতের ক্ষেত্রে কোনো ‘হেয়ারকাট’ থাকবে না। একই সঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানতের মূল অর্থ তুলতে পারবেন বলে জানানো হয়।
এ জন্য গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হচ্ছে। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীরা চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা এবং মেয়াদি আমানতের মূল অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা এখন পাওয়া যাবে না।
কোনো গ্রাহক মেয়াদি আমানতের মূল টাকা তুলে নিলে ওই আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা দেওয়ার নিয়ম থাকবে।