বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য ১৩৪ কোটি টাকার একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে এবং তিনটি মারা গেছে। বর্তমানে প্রকল্পে মাত্র চারটি উটপাখি রয়েছে, তবে সংরক্ষিত শেডে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দুইটির বেশি উটপাখি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে আফ্রিকা থেকে উটপাখিগুলো আনা হয়। প্রকল্পটির পরিচালক বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের জলবায়ুতে উটপাখির অভিযোজন, প্রজনন সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা।
বিএলআরআই সূত্রে জানা গেছে, গবেষণার জন্য ১৫টি উটপাখি জবাই করা হয়েছে মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ মূল্যায়নের জন্য। তবে বিশেষজ্ঞরা উটপাখি জবাইয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, উটপাখি বাংলাদেশের দেশীয় প্রাণী নয়, তাই এদের অভিযোজন সহজ নয়।
এদিকে, প্রকল্প পরিচালক ড. সাজেদুল করিম সরকারের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিকটাত্মীয়দের প্রকল্পে সম্পৃক্ত করেছেন এবং নিয়োগ ও ফেলোশিপ বণ্টনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক বলেন, উটপাখি জবাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল গবেষণার জন্য। তবে প্রকল্প-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকই ভালো বলতে পারবেন।