April 19, 2026, 9:32 am

ডিএনডিবাসীর জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান না হলে ময়লা পানিতে নেমে ধর্মঘট করবো:এ,কে এম শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আমার এলাকার ত্রিশ চল্লিশ লাখ লোক এখানে থাকে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ময়লাসহ এমন কোন বিষাক্ত ময়লা নেই যা এই পানিতে নেই। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস রাখেন আমাদের ওপরও রাখেন। এটা যদি অপসারণ করা না হয় আমি তাহলে ওই ময়লা পানিতে নেমে অবস্থান ধর্মঘটে নেমে যাবো। আমি গলা পর্যন্ত পানিতে নেমে দাঁড়িয়ে থাকবো।

রোববার (২ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলস্থ ডিএনডি এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান পাম্প হাউস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমার প্রত্যাশা আছে কারণ পানিসম্পদ মন্ত্রী মহোদয় আমাকে কথা দিয়েছেন। বলেছে কয়েকটা দিন সময় দিন। নাহলে আমি নিজে যে যে এলাকায় পানি থাকবে সেখানে ময়লা পানিতে নেমে প্রতিবাদ জানাবো।

ডিএনডি প্রজেক্টের জন্য ১২শ ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মূলত করেনা ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই টাকাটা আসতে দেরি হয়ে গেছে। তবে এই জুলাই মাসেই টাকাটা আসবে। যেহেতু সেনাবাহিনী কাজটি করবে আমার প্রত্যাশা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি তারা শেষ করতে পারবে। তাদের ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের সময় আমি অসুস্থ থাকায় সেখানে যেতে পারিনি। আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি। ও তার টিম নিয়ে এলাকাগুলোতে গিয়েছে। ও এসে আমাকে ছবি দেখালো বলল মানুষের যা অবস্থা সেখানে জীবন যাপন করাও সম্ভব না। সেখানে মানুষকে কোরবানি করতে হচ্ছে। আমি কষ্টে ঈদের দিন সারাদিন বের হইনি। কারও সাথে কথাও বলিনি।

তিনি বলেন, আমার পানির কানেকশনটা তো ড্রেনের সাথে থাকতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জ পুরোটাই তো সিটি করপোরেশনের এলাকা। সিটি করপোরেশনের কাছে অনুরোধ যেন অতিশিঘ্রই সিদ্ধিরগঞ্জের ড্রেনেজ ব্যাবস্থা ঠিক কটা পানিটা যেন ডিএনডি খালে যায়। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে আমরা পানিতে নেমে বসে থাকবো।
এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান,সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আনোয়ার ইসলাম,৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী নুরুদ্দিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহবায়ক নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি,৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইফতেখার আলম খোকন, সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিকলীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ বেপারী,স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হাজী জহির, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মাহবুব হোসেন, সরকারী তোলারাম কলেজের ভিপি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার রহমান বাপ্পি, তপন মাহমুদ, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির,যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন, ডিএনডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ পানি সম্পদ মন্ত্রানলয়ের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা