April 19, 2026, 9:35 am

নকল প্রসাধনী তৈরী ও সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারী সেই চপল গ্রেফতার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে নকল প্রসাধনী উৎপাদন, প্যাকেট, বাজারজাত ও সাংবাদিক লাঞ্ছনাকারী সেই আহসান হাবীব চপলকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মহিমাগঞ্জের শ্রীপতিপুর কর্মকার পাড়ায় (ইউপি ভবন সংলগ্ন) অবস্থিত কারখানা থেকে তাকে গ্রেফতার করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ইজার উদ্দিন।
জানা যায়, মহিমাগঞ্জে দীর্ঘদিন থেকে গোপনে বাসায় কারখানা স্থাপন করে দেশী-বিদেশি ব্র্যান্ডের নকল প্রসাধনী উৎপাদন, প্যাকেট ও বাজারজাত করে আসছিল আহসান হাবীব চপল। বিষয়টি গোপনসূত্রে খবর পেয়ে তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহে প্রিণ্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার একাধিক সাংবাদিক গেল সোমবার দুপুরে সেখানে উপস্থিত হন। এসময় কৌশলে সাংবাদিকদের কারখানায় অবরুদ্ধ করে তাদের লাঞ্ছিত করে আহসান হাবীব চপল ও তার সহযোগিরা। পরে ভুক্তভোগীদের একজন গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ধারণকৃত কারখানার বিভিন্ন নকল ব্র্যান্ডের স্টিকার, উৎপাদিত সাবান, হ্যান্ড সেনিটাইজার, তেল, লোশন, রং ফর্সাকারী ক্রিম, স্পট ক্রিম পণ্যের প্যাকেটজাতকরণ ও কাঁচামালের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরের দিন সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে সর্বমহল থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় তোলে নেটিজেনরা।
ঘটনার পরের দিন (মঙ্গলবার ২৮ জুন) দুপুরে জেলা ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা ওই কারখানায় উপস্থিত হয়। সুচতুর আহসান হাবীব চপল এদিন কারখানাটি থেকে সকল নকল ব্র্যান্ডের স্টিকার, উৎপাদিত পণ্য ও কাঁচামাল সরিয়ে নতুনভাবে ভোক্তা অধিকারের সামনে উপস্থাপন করে। এসময় ভোক্তা অধিকারের জেলা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আবারও গুঞ্জন ওঠে এবং নেটিজেনদের নানা নেতিবাচক কমেন্েেট ফেসবুক ওয়ালগুলো ভরে যায়।
এদিকে সাংবাদিক লাঞ্ছিতর ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জের সকল সাংবাদিকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে। তারা অবিলম্বে আহসান হাবীব চপলকে গ্রেফতার ও অবৈধ ওই কারখানা সীলগালার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি হাতে নেয়। এরই প্রেক্ষিতে নকল প্রসাধনী তৈরী কারখানান মালিক এবং সাংবাদিকদের লাঞ্ছিতকারী সেই আহসান হাবীবকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।
থানা সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় একাধিক ধারায় আহসান হাবীব চপল ও তার সহযোগীদের আসামী করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা নং- ৫৯/২২। এ রিপোর্ট লেখাকালীন তাকে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, আহসান হাবীব চপল এর আগে ঢাকায় এই কারখানা স্থাপন করে নকল প্রসাধনী বাজারজাত করত। সেখানে টিকতে না পেরে দীর্ঘদিন থেকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা মহিমাগঞ্জে গোপনে এসব পণ্য বাজারজাত করায় গাইবান্ধার কসমেটিক্স দোকানগুলো নকল পণ্যে সয়লাব হয়ে যায়।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা