বাংলাদেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। মোট ১৬ হাজার ৬৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে আঞ্চলিক সড়কে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। পরবর্তী বছরগুলোতে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৭৭ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৮টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৫ হাজার ৪৯৭টি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ৬ হাজার ৩১৪টি ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে। পণ্যবাহী যানবাহন মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশের জন্য দায়ী। মোটরসাইকেল চালক এককভাবে ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দেশে নিবন্ধিত মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল হওয়ায় এবং কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছে। তারা নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে।