‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুই দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে।
পহেলা বৈশাখ, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এগিয়ে চলেন। নান্দনিক মুখোশ, পাখির শিল্পকাঠামো এবং ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির উপস্থিতি আয়োজনকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
শোভাযাত্রা শেষে ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য। তিনি উপস্থিত সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সার্বজনীন উৎসব, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনমেলা। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা বাঙালির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), প্রক্টরসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করে।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে লাঠি খেলা, বিলুপ্তপ্রায় ধুয়া গান, বৈশাখী ও বাউল গান, আবৃত্তি, নৃত্য, রম্য বিতর্ক এবং গম্ভীরা পরিবেশিত হয়। গম্ভীরার নির্দেশনা ও অভিনয়ে ছিলেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনোজ কুমার প্রামাণিক। এতে সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) মাননীয় উপাচার্য ফিতা কেটে বৈশাখী মেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০টি স্টল অংশগ্রহণ করে। একই দিন বিকেলে চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে জয়ধ্বনি মঞ্চের সামনে ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায়, যেখানে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা দেখা যায়।
মোঃ আব্দুল কাদের-স্টাফ রিপোর্টার ময়মনসিংহ